অরেঞ্জ সিটি অর্থাৎ সহিংসতা মুক্ত যশোর গড়ার প্রত্যয়ে ইয়াভ ফাউন্ডেশন

সারাবিশ্বে সহিংসতার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটি সমীক্ষায় দেখা যায় বিশ্বে প্রতি ৬ জনের মধ্যে ১ জন শিক্ষার্থী সাইবার বুলিং এর শিকার এবং সাইবার বুলিং এর শিকার হওয়া ৭৯% কিশোর কিশোরী। এছাড়াও নারী সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা তো আছেই। অনলাইনে হয়রানি বা সাইবার বুলিং এর কারণে হতাশায় ভোগেন অনেকেই। এর মধ্যে একটি অংশ হতাশা সহ্য করতে না পেরে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ । যার ফলে ক্রমাগত আত্মহত্যার হার বেড়েই চলেছে এবং দেশে ১৮ বছরের নিচে বাল্যবিবাহ এর হার ৫১.৪০% আর ১৫ বছরের নিচে এই হার ১৫.৫০% ।

গোটা বিশ্ব যখন সাইবার বুলিং, নারী সহিংসতা, বাল্যবিবাহের কবলে; ঠিক তখনই যশোরের একঝাঁক তরুণ-তরুণীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে ইয়াভ ফাউন্ডেশন। সাইবার বুলিং- বিশ্বব্যাপী এক মহামারীর নাম যা সমাধানে ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা রোহিত রায় তৈরি করেন উদ্ভাবনী মোবাইল এ্যাপ “ইয়াভ”। এ্যাপটির মাধ্যমে প্রায় অর্ধশতাধিক তরুণ-তরুণীর সমস্যা সমাধানসহ দুই শতাধিক তরুণ-তরুণীকে মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট প্রদান করে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ইয়াভ। এছাড়াও দেশের ক্রান্তিলগ্নেও অসহায় মানুষদের পাশে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে বহুবার। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গড়ে তুলেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান “রেঞ্জার্স মার্ট” এবং সেই সাথে তারুণ্যের কথাগুলো তুলে ধরতে রয়েছে “রেঞ্জার্স ভয়েস”। তারা স্বপ্ন দেখে যশোরকে ‘অরেঞ্জ সিটি’ ব্রান্ডিং এর। ‘অরেঞ্জ সিটি কি’ এর প্রতিত্তুরে ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান রোহিত রায় বলেন,সাদা যেমন শুভ্রতা এবং শান্তির প্রতীক, সবুজ সজীবতার প্রতীক যা চিরসবুজ বাংলাদেশকে নির্দেশ করে, তেমনই অরেঞ্জ এন্টি-ভায়োলেন্সকে রিপ্রেজেন্ট করে। এখান থেকেই অরেঞ্জ সিটি গড়ার প্রত্যাশা শুরু হয় ইয়াভের। এই অভিনব উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা রোহিত রায়ের নেতৃত্বে সহিংসতামুক্ত যশোর গড়তে এবং যশোরকে অরেঞ্জ সিটি হিসেবে ব্র্যান্ডিংয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে ইয়াভ। গতবছরের অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখ জাকজমকপূর্ণ আয়োজন এবং শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই উদ্যোগটির শুভসুচনা ঘটে।শিল্পের আলোকে সমাজকে মানবিক ধারায় গড়ে তুলতে কাজ করছে ‘আর্ট ফর হিউম্যানিটিজ’ নিয়ে। সম্প্রতি এই আলোকে একজন ক্যান্সার রোগীর সাহায্যর্থে সফল ভাবে “কনসার্ট ফর এন্টি-ভায়োলেন্স” সম্পন্ন করে মানবিকতার এক দৃষ্টি স্থাপন করেছে ইয়াভ ফাউন্ডেশন। সেই সাথে যশোরকে অরেঞ্জ সিটি গড়ার লক্ষ্যে গত ১৮/১০/২০২৪ তারিখে ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় এই চ্যারিটি কনসার্টটি। আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল দেশসেরা জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘সোনার বাংলা সার্কাস’।

দর্শকের উপচেপড়া ভিড়ে আয়োজকবৃন্দ অনুপ্রাণিত এবং যশোরকে অরেঞ্জ সিটি ব্রান্ডিংয়ে এই আয়োজন ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান রোহিত রায় রিক্ত এবং এমন আয়োজনকে সফল করতে পেরে আপ্লুত হয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে ইয়াভিয়ানরাও। যশোরের গন্ডি পেরিয়ে ঢাকা, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহসহ দেশের দশটি জেলায় ইতোমধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ইয়াভ।

তরুণ-তরুণীদের সকল সমস্যা সমাধানে এবং প্রতিরোধ করতে ইয়াভ ফাউন্ডেশন নিশ্চিত করছে আইনবিষয়ক সহায়তা । রোহিত রায় ব্যতীতও এই উদ্যোগকে সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছে শ্রাবন্তী বারই সুচি,তাসজিদ হাসান, শাম্মী আক্তার, জয় দত্ত, রুমানা নওরিন,শাহরিয়ায় উৎসব,সাদিয়া সিদ্দিকী সহ একঝাঁক তরুণ উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী সক্রিয়ভাবে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষত বাল্যবিবাহ রোধ, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ইয়াভ ফাউন্ডেশন। যশোরকে একটি সুস্থ, উন্নত ও নিরাপদ শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইয়াভের স্কোয়াড মেম্বারদের প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ২০২০ সালের করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে ইয়াভ সদস্যরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করেছে, যা প্রমাণ করে তাদের মানবিক দায়িত্ববোধ। এছাড়াও ইয়াভের কার্যক্রমের মধ্যে ছিল শীতার্তদের শীতবস্ত্র বিতরণ, রোজার মাসে ইফতার বিতরণ বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, মাদ্রাসায় খাবার সরবরাহ, সচেতনতামূলক বিভিন্ন আয়োজন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে ইয়াভ । যেকোনো বিপর্যয়ে, যেমন জুলাই মাসে গণভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ, ইয়াভ তার সদস্যদের মাধ্যমে দেশের প্রতি বিশেষ অবদান রেখেছে।

বিজয়ের পর, ইয়াভের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন দেশকে নতুনভাবে সংস্কার করার জন্য। তারা নিজ হাতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, গাছ লাগানো, ট্রাফিক কন্ট্রোল, গ্রাফিতি আঁকা, প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন এবং শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালনসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। বন্যার সময় বন্যাকবলিত মানুষদের সহায়তার জন্যও ইয়াভিয়ানরা দিন-রাত এক করে কাজ করেছে, মানবিকতার চেতনায় ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পাশে থেকেছে। তাদের এই অবিচল প্রচেষ্টা সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছে। এছাড়াও সম্প্রতি যশোরে প্রথমবারের মতো ম্যারাথন “Run For Jashore 1.0” আয়োজন করেছে ইয়াভ ফাউন্ডেশন,যা জনমনে ব্যাপক আড়ম্বরতা সৃষ্টি করেছে।

এভাবেই এগিয়ে চলেছে ইয়াভ ফাউন্ডেশন। লক্ষ্য যশোর থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলায় পৌঁছানো। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সকল ধরনের অপরাধ নিরসন করে আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও সর্বোপরি নিরাপদ সহিংসতা মুক্ত সমাজ গঠনের নিশ্চায়তায় নিষ্ঠার সহিত কাজ করে যাওয়াই প্রত্যেক ইয়াভিয়ানের মূল লক্ষ্য বলে নিশ্চিত করেছেন ইয়াভ প্রতিষ্ঠাতা রোহিত রায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *