আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইয়াভ’র রাইসা জামান। প্রতিনিধিত্ব করলেন বাংলাদেশ এর।

সিউলের মেরিনা বে হোটেলে গত ২ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয় কোরিয়া ইয়ুথ সামিট। ইয়ুথ ব্রেকিং দ্য বাউন্ডারিজ (ওয়াইবিবি) আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ছয়টি দেশের তরুণ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার এই মঞ্চে

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইয়াভ ফাউন্ডেশনের সেক্টর কো অর্ডিনেটর রাইশা জামান। শুধু প্রতিনিধিত্বই নয়, তিনি ফিরে এসেছেন দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার নিয়ে।

সম্মেলনের আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখেন কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রিডম ক্লাবের সভাপতি মি. কিম কাংউ, যিনি উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসার তাঁর জীবনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল এমবিএ প্রোগ্রামের একাডেমিক পরিচালক অধ্যাপক ড. বেটি চুয়াং সাংস্কৃতিক বুদ্ধিমত্তা ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়ে আলোকপাত করেন। এছাড়া সিনিয়র মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ সিফা উতারি পেশাদার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। সিম্পোজিয়ামের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা পর্ব।

রাইশা জামান উপস্থাপন করেন তাঁর স্বতন্ত্রভাবে গবেষণা করা প্রকল্প ফিউচার রেডি ইউথল্যাব। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চতুর্থ লক্ষ্য ‘মানসম্মত শিক্ষা’ (SDG 4) অনুযায়ী তৈরি এই উদ্যোগটি সুবিধাবঞ্চিত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম।

পাঁচ দিনের এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা পাবে। এটি একটি স্বল্পব্যয়ী, সহজে সম্প্রসারণযোগ্য মডেল যা মাত্র ছয় মাসে ২,৫০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম।

সম্মেলনের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ওয়াইবিবি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেলদি লাতিফাহ সারাসওয়াতি রাইসা জামানের হাতে তুলে দেন ‘বেস্ট প্রেজেন্টার (সিনিয়র)’ পুরস্কার। এর পাশাপাশি তিনি ‘বেস্ট কন্টেন্ট ক্রিয়েটর (ফিমেল)’ পুরস্কারেও ভূষিত হন। পুরস্কার গ্রহণের সময় রাইশা পরিধান করেছিলেন ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এক সুচিন্তিত প্রয়াস।

রাইসা জানান, “বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ১০ বছর বয়সী ১০ জনের মধ্যে ৭ জন শিশু বিদ্যালয়ে গেলেও একটি সাধারণ বাক্য পড়তে বা বুঝতে পারে না । এই সমস্যাটি শুধু বাংলাদেশের নয় এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। আমি চাই ফিউচার রেডি ইউথল্যাব এই সংকটের একটি বাস্তব সমাধান হয়ে উঠুক।”

কোরিয়া থেকে ফিরে আসা রাইসা জামান এখন ইয়াভ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে তাঁর এই প্রকল্পকে দেশের মাটিতে বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয় এটি বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রমাণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *